বেশী লাভজনক প্রোডাক্ট বাছাই করার যত রহস্য – দ্বিতীয় অংশ (৪থ দিন)

আবারো স্বাগতম সবাইকে! আশা করি এর মধ্যেই আপনারা একটা লিস্ট করে ফেলেছেন । যেখানে আপনারা যে জনপ্রিয় নিশের প্রোডাক্টগুলো প্রমোট করতে চান সেগুলো লিস্ট আছে। এসব আমি কি বলছি এটা বুঝতে যদি আপনার সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আপনি হয়তোবা এর আগের পোস্টটি দেখেন নি।

দেখে নিন বেশি লাভজনক প্রোডাক্ট বাছাই করার যত রহস্য - প্রথম অংশ

আজকে এই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই সেই লিস্ট থেকে বেছে নিতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত একটা প্রোডাক্ট...

কমিশন রেট চেক করে নিন

আপনি যদি ডাউনলোড করার মতো কোনো ই-বুক অথবা এরকম আধুনিক অন্যান্য প্রোডাক্ট সেল করতে চান সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪০% থেকে ৫০% কমিশন রেট পাবার কথা (আপনার লক্ষ্যও এরকমই হওয়া উচিত) । অনেক বিক্রেতা এর থেকে বেশী ও অফার করে কিন্তু কখনোই ৪০% এর নিচে কেউ অফার করলে সেটা গ্রহন করবেন না।

commission

অভ্যন্তরীণ কিছু খোঁজ খবর জেনে নিন

আপনার বিক্রেতার নাম, ইমেইল, ওয়েব লিঙ্ক এবং প্রোডাক্ট গুলো লিখে গুগলে সার্চ দিন। মনে রাখবেন রেপুটেশন আছে এরকম বিক্রেতা লাগবে (কমপক্ষে ৬ মাসের, যদিও তার থেকে বেশী হলে আরো ভালো)।

টিপসঃ ছোটখাটো দুই-একটা কমপ্লেইন থাকলে সেগুলো নিয়ে ভাববেন না বিশেষকরে যদি অনেক বড় ক্ষেত্র হয় সেখানে।

তবে হ্যা, সেখানে যদি অনেক সিরিয়াস কোন কমপ্লেইন যেমন fraud, slow or no payment for affiliates, not honoring a refund policy অথবা অনেক বেশী কমপ্লেইন থাকে তাহলে সেটা এরিয়ে যাওয়াই উচিৎ।

cb-passive-income-review

কনভার্সন রেট/ মূল্য সম্পর্কে খোঁজ নেয়া

যদি এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে বিক্রেতার অ্যাফিলিয়েট পেজে গিয়ে দেখে নিন কনভার্সন মূল্য সম্পর্কিত কোনো তথ্য আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করুন। সেই সাথে এটাকে কোনো বড় ঝামেলা মনে করবেন না কারণ অনেক স্বল্প অবিজ্ঞতা সম্পন্ন বিক্রেতাই তাদের কনভার্সন মূল্য মনিটর করে রাখে না।

টিপসঃ যদি কোনো কনভার্সন রেট না থাকে তাহলে প্রোডাক্ট সেলস পেজ ভালোভাবে চেক করে নিন।

সৎ থাকুন, সেলস পেজ দেখে চিন্তা করুন আপনার ক্লাইন্ট এর জায়গাতে আপনি যদি ওই সেলস পেজ দেখেন তাহলে আপনি কি প্রোডাক্ট টা কিনবেন? এবং দেখুন সেলস পেজে যা লিখা আছে শ্বেতা কি বিশ্বস্ত এবং প্রফেশনাল মনে হয়?

যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে পরবর্তী বিষয়ে চলে যান। 

বিক্রয়ের জন্য বিক্রেতা কোনো টুল দেবে কিনা দেখে নিন

এরপর যেটা দেখতে হবে সেটা হলো প্রোডাক্ট প্রমোট করার জন্য কোনো টুলস যেমন- ইমেইল, ব্যানার অথবা এরকম কোনোকিছু বিক্রেতা দেবে কিনা। এটাও তেমন কোন বড় সমস্যা না কিন্তু এটা দিলে বোঝা যায় যে বিক্রেতা আপনার সফলতা সম্পর্কে সচেতন।

 Banner Ads Swipe

কোনো কমিশন লিক/ খাঁদ আছে কিনা যাচাই করে নিন

এরপর সবথেকে বড় কাজ যেটা সেটা হলো বিক্রয়ের পেজ ও বিক্রয় পদ্ধতিগুলো ভালো ভাবে যাচাই করে দেখা সেখানে কোনো ত্রুটি বা ভেজাল আছে কিনা।

  • বিক্রেতা যদি বিক্রয় পেজ থেকে ভিজিটরদের তার কোন Newsletter এ যুক্ত হবার সুযোগ দিয়ে থাকে তাহলে সেখানে যুক্ত হয়ে দেখেনিন সে কিভাবে ইমেইল এর মাধ্যমে তার প্রোডাক্ট প্রমোট করে ।

যদি নিচের কোনোটা খুঁজে পান তাহলে সরাসরি বাদ দিন।

  • বিক্রয়ের ওই পেজে অপ্রয়োজনীয় সব লিঙ্ক (যেমন- অন্য কোনো প্রোডাক্টের লিঙ্ক, কোনো ব্লগের লিঙ্ক অথবা এরকম অন্য কোনো লিঙ্ক)
  • বিক্রয়ের ওই পেজে কোনো বিজ্ঞাপন যেমন হতে পারে Google AdSense সম্পর্কিত কোনোকিছু।
  • বিক্রয় পেজে টাকাপয়সা লেনদেনের কোনো উপায় যেটা থেকে আপনার কোনো লাভ আসবে না (যেমন হতে পারে আপনি যখন Clickbank.com থেকে ট্রাফিক পাঠাচ্ছেন সেখানে 2checkout.com এর একটা অপশন দেয়া)
  • বিক্রয় পেজে অপ্রয়োজনীয় যে কোনো পপআউট উইনডো অথবা অসঙ্গতি যেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কুকি (cookie) এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
  • বিক্রয় পেজে আপসেল, ওয়ান টাইম কোনো অফার অথবা কোনো কিছু অর্ডার করার ফর্ম যেগুলোতে আপনার কোনো লাভ নেই।

আপনার কাজ হবে তারাতারি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিন যাতে বিক্রিয়ের বিস্তারিত নিয়মাবলী দেখে কোনো অসঙ্গতি অথবা কমিশন লিক আছে কিনা সেটা যাচাই করে নিতে পারেন।

প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালোভাবে জানা

সবশেষে ভালোভাবে পড়ে অথবা ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আসলেই সেটা একটা ভালো প্রোডাক্ট।

টিপসঃ আপনার যদি আপনার পরিবার বা বন্ধুবান্ধবকে সেই প্রোডাক্টটা কিনতে বারণ করতে ইচ্ছে হয় তাহলে সেটা অন্যকে কেনার উপদেশ না দেয়াই উচিৎ।।

আজকের কাজঃ উপরের সবগুলো ধাপ ভালোভাবে পড়ে একটা প্রোডাক্ট পছন্দ করুন যেটা আপনি প্রমোট করবেন। তাহলে আগামীকালই আপনি আপনার ডোমেইন নেম পছন্দ করতে পারবেন!